ফিরে আসছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের অতীত ইতিহাস।


পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাবান, অহংকারী, উদ্ধত ফিরাউনের শেষ পরিণতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে।

فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيراً مِّنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ

"তাই, আজ আমি তোমার দেহকে সংরক্ষণ করবো, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য একটি নিদর্শন হতে পারো। আর অধিকাংশ মানুষই আমার নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন।" (সুরাহ ইউনুস, আয়াত : ৯২)

وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْوًا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنتُ أَنَّهُ لا إِلِـهَ إِلاَّ الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَاْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ

آلآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ

গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হবার আগে ফিরাউন বলেছিল, "আমি বিশ্ব জগতের রবের উপর ঈমান আনলাম। নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া অন্য কোন রব নেই।" মহান রাব্বুল আলামিন কোরআনে ইরশাদ করেন, "এখন। ফিরাউন। তুমি তো এর আগে ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী। আর পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছিলে।" (সুরাহ ইউনুস, আয়াত : ৯০-৯১)

মানব জাতির ইতিহাসের শুরু হয়েছিল হযরত আদম (আঃ) এর মাধ্যমে। কিন্তু কোরআনের শুরুর দিকে সুরা আল বাকারায় মহান রাব্বুল আলামিন হযরত আদম (আঃ) এর ঠিক পরেই ফিরাউন ও তার অনুসারীদের করুণ পরিণতি সম্পর্কে ইরশাদ করেন। তাই বোঝা যায়, ইতিহাসের শুরুর দিকের এই ঘটনার সাথে ইতিহাসে শেষের একটি যোগসূত্র রয়েছে।

ইতিহাসের শেষেও ঠিক ফিরাউনের মতই এক দল অহংকারী, উদ্ধত, শক্তিশালীদের আবির্ভাব ঘটবে যারা নিজেদেরকে খোদা দাবি করবে। আর আল্লাহর দেওয়া বিধানকে অস্বীকার করবে। ফিরাউনের মতই তারা মহান আল্লাহ ও আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে এক হাস্যকর অসম যুদ্ধে লিপ্ত হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈমানদার মুসলমান মাত্রই তাদের উপস্থিতি বুঝতে পারছেন। কারণ তাদের ঔদ্ধত্য আর অহংকারের সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। এখন তারা ঠিক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। অতীতে ফিরাউনের করূণ পরিণতি এদেরকেও মেনে নিতে হবে। কারণ এরা বেছে নিয়েছে ফিরাউনের জীবনযাত্রা।

ইতিহাসের শেষও একই ভাবে হবে আল্লাহর সাহায্য আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে। হযরত মুসা (আঃ) ফিরাউন বাহিনীর উপর জয় লাভ করেছিলেন। মিথ্যার উপর সত্য জয় লাভ করেছিল।

হযরত মুসা (আঃ) এর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কিছুই ছিল না। অথচ ফিরাউন বাহিনীর ছিল সকল ধরণের অস্র। কিন্তু তার সেই অস্র কোন কাজেই আসেনি। সে পরাজিত হয়েছে।

এমনি করেই পরাজিত হবে আধুনিক ফিরাউনরা। কারা এই ফিরাউন? পৃথিবীতে যারা ফিরাউনের মত জীবন যাপন করে, তাদের পরিণতি ঠিক ফিরাউনের মতই হবে। যারা অহংকারী, উদ্ধত, শক্তিশালী। তাদের অস্রের কোন অভাব নেই। ইসলামের বিরুদ্ধে যারা প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ঠিক একইভাবে যেমন ফিরাউন করেছিল মহান রাব্বুল আলামিনের বিরুদ্ধে।

তারা এটা করে বলেই আমরা বুঝতে পারি ইসলাম সত্য। তারা নিজেরাই প্রমাণ করে দিয়েছে ইসলাম আল্লাহর পথ।

ফিরাউনের সংরক্ষিত দেহ দিয়ে মহান রাব্বুল আলামিন আধুনিক ফিরাউনদের শেষ বারের মত সতর্ক করেছেন। কিন্তু তারা আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঔদ্ধত্য, অহংকার, শক্তিমত্তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই বোঝা যায়, আল্লাহর সাহায্য ও আধুনিক ফিরাউনদের ধ্বংস অতি নিকটে।
সমাপ্ত
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url